সম্প্রতি ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক মসৃণ করার একাধিক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। চীনা নাগরিকদের ভারতে আসার ছাড়পত্র, দীর্ঘদিন পর কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালু করা, এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন চীন সফর—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দুই দেশ তিক্ততা ভুলে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে।
২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সেনাদের সংঘর্ষের পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নষ্ট হতে শুরু করে। তার আগেই, কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে সরাসরি বিমান পরিষেবা স্থগিত হয়ে যায়। সংঘর্ষের পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও উড়ান চালু হয়নি।
নতুন প্রস্তুতি কেন?
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে যে কোনও সময় সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হতে পারে, সেই কারণে বিমান সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সময়সূচি ও ক্রু ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। উড়ান চালু হলে নয়াদিল্লি, মুম্বই, কলকাতা প্রভৃতি শহর থেকে বেজিং ও সাংহাই পর্যন্ত যাতায়াত সহজ হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক মার্কিন শুল্ক নীতি ভারত ও চীনকে আরও কাছাকাছি আনতে সাহায্য করছে। আমদানি-রপ্তানিতে নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ায় দুই দেশই বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে। সরাসরি বিমান পরিষেবা শুরু হলে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও পর্যটন দুই-ই বাড়বে।
বর্তমানে ভারত থেকে চীনে যেতে তৃতীয় দেশে স্টপওভার লাগে। সরাসরি উড়ান সময় অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
ব্যবসায়িক গতি: প্রযুক্তি, উৎপাদন, ও আমদানি-রপ্তানি খাতে সহযোগিতা বাড়বে।
পর্যটন বৃদ্ধি: উভয় দেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পর্যটন (যেমন কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা) বাড়বে।
সব মিলিয়ে, সেপ্টেম্বর মাসটি ভারত-চীন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদি সরাসরি বিমান পরিষেবা বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি শুধু দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব কমাবে না, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্তও খুলে দেবে।