রাজগঞ্জে লেপ্টোস্পাইরা (Leptospirosis) সংক্রমণ ঘিরে আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। জলপাইগুড়ি জেলার সন্ন্যাসীকাটা পঞ্চায়েতের চেকরমারি গ্রামে একাধিক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে, তাঁর ছেলে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। ফলে গ্রামজুড়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
কী এই লেপ্টোস্পাইরা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, লেপ্টোস্পাইরা রোগ মূলত ইঁদুরের মূত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। মাটিতে বা জলে সেই জীবাণু থাকলে মানুষের শরীরে সংক্রমণ হয়। উপসর্গগুলির মধ্যে থাকে- জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ভেঙে যাওয়া, জন্ডিসের মতো উপসর্গ, চোখ লাল হয়ে যাওয়া (কনজাংটিভাইটিস সদৃশ)।
চেকরমারি এলাকায় একটি বড় পোল্ট্রিফার্ম রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মুরগির বিষ্ঠা ফেলে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে মাছির উপদ্রব ভয়াবহ হয়ে ওঠে কিছুদিন আগে। মানুষকে এমনকি মশারির ভেতর বসে খাওয়াদাওয়া করতে হচ্ছিল। গ্রামবাসীদের ধারণা, ওই মাছির মাধ্যমেই হয়তো সংক্রমণ ছড়িয়েছে।
জলপাইগুড়ির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. অসীম হালদার জানান, মূলত ইঁদুরের মূত্র থেকেই লেপ্টোস্পাইরা ছড়ায়। তবে পোল্ট্রিফার্ম থেকেও কোনোভাবে সংক্রমণ হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুরগির বিষ্ঠার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া, ওই গ্রামগুলিতে একাধিক মানুষ হেপাটাইটিস A ও হেপাটাইটিস E-তেও আক্রান্ত। যা মূলত দূষিত পানীয় জলের মাধ্যমে ছড়ায়। স্বাস্থ্য দপ্তর পানীয় জলের নমুনাও সংগ্রহ করেছে। এলাকায় অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প বসানো হয়েছে। আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে ভরতি করে চিকিৎসা শুরু করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর পানীয় জলের মান পরীক্ষা করছে।
ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক রাহুল রায় ও রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় আক্রান্ত গ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। বিধায়ক খগেশ্বর রায় জানান, 'গ্রামে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। স্বাস্থ্য দফতর সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে।'