মহারাষ্ট্রে এক রহস্যময় ডাকাতির ঘটনা যেন সরাসরি ব্যোমকেশের গল্প থেকে উঠে এসেছে। দিনের আলোয়, পুরুষের ছদ্মবেশে এক তরুণী প্রায় দেড় কোটি টাকার গয়না ও নগদ লুট করে পালালেন। কিন্তু পুলিসি তদন্তে প্রকাশ পেল অবিশ্বাস্য সত্য-এই ‘ডাকাত’ আর কেউ নন, ছিলেন বাড়িরই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, অর্থাৎ ছোটবউ-এর বোন।
ঘটনাটি ঘটে থানের এক বিত্তশালী ব্যবসায়ীর বাড়িতে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হেলমেট পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে চড়ে এসে বাড়িতে প্রবেশ করেন। বন্দুক দেখিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখিয়ে গয়না ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর একইভাবে মোটরসাইকেলে চেপে দ্রুত সরে পড়েন।
প্রথমে পুলিস মনে করেছিল এটি একটি সাধারণ ডাকাতির ঘটনা। ফুটেজ থেকে মোটরসাইকেলের নম্বর ও ডাকাতের গড়ন সম্পর্কে কিছু তথ্য মেলে, কিন্তু হেলমেটের কারণে মুখ চেনা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত যত এগোয়, পুলিস টের পায়, অভিযুক্ত খুব সহজেই বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন এবং ঘরের ভিতরের প্রতিটি কোণা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন। সন্দেহ ঘনীভূত হয়-ডাকাতটি হয়তো পরিবারেরই কেউ।
শেষমেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। অভিযুক্তের নাম পূজা গোড়ে। পুরুষের মতো হাঁটা-চলা, আচরণ-সবই ছিল পরিকল্পিত ছদ্মবেশের অংশ। উদ্দেশ্য? পারিবারিক বিবাদ ও আর্থিক অসচ্ছলতা থেকে মুক্তি পেতে দিদির শ্বশুরবাড়িতেই ডাকাতি। পুলিস আরও জানতে পারে, ডাকাতির আগে তিনি একটি মোটরসাইকেল চুরি করেছিলেন-যেটি পরবর্তীতে ফুটেজে ধরা পড়ে।
গ্রেফতারের পর পূজার কাছ থেকে চুরি যাওয়া গয়নার একটি বড় অংশ ও নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। থানে পুলিসের মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দিল অপরাধের ধরন কতটা বদলাচ্ছে-যেখানে বিশ্বাস, সম্পর্ক ও পারিবারিক বন্ধনকেও কাজে লাগানো হচ্ছে অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে।