আরজি কর কাণ্ডের বর্ষপূর্তিতে ফের উত্তাল রাজনীতি! ফের ‘নবান্ন অভিযান’ (Nabanna Abhijan)-এর ডাক — তবে কে ডাকল, তা-ই জানে না কেউ! আয়োজকের নাম নেই, দায়িত্ব নেই — অথচ শহর জুড়ে পোস্টার আর সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরদার প্রচার। আর তাতেই উদ্বেগে প্রশাসন ও আদালত।
শুক্রবার হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, “নবান্ন অভিযানের কথা সোশ্যাল মিডিয়া ও পোস্টারে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কোনও সংগঠন বা ব্যক্তি দায় নিচ্ছে না। বিশৃঙ্খলা হলে দায় নেবে কে?”
বিচারপতি সুজয় পাল স্পষ্ট করেন, “প্রতিবাদ মৌলিক অধিকার। কিন্তু আইন অমান্য, সরকারি সম্পত্তি ক্ষতি বা পুলিসকে আক্রমণ চলবে না। বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করুক পুলিস।”
তাল মিলিয়ে কড়া বার্তা রাজ্য পুলিশেরও। ADG (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতীম সরকার জানান, “নবান্ন স্পর্শকাতর। হাওড়া পুলিস ১৬৩ (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করেছে। নবান্ন এলাকায় কোনও জমায়েত, মিছিল নিষিদ্ধ।”
প্রতিবাদের বিকল্প হিসেবে কলকাতা পুলিস চিহ্নিত করেছে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ, এবং হাওড়া পুলিস দিয়েছে সাঁতরাগাছি বাসস্ট্যান্ডের অনুমতি।
পুলিস আরও জানায়, আয়োজক হিসেবে কেউ সামনে না আসলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
পুলিসের আবেদন, “প্রতিবাদ করুন, কিন্তু আইন মেনে। প্রশাসন সহযোগিতা করবে। কিন্তু নির্দেশ অমান্য বা হিংসা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নবান্ন অভিযানের নামে কারা পথে নামছে, তা এখনও ধোঁয়াশায়। কিন্তু পুলিস ও হাইকোর্টের বার্তা এক —
আইনের বাইরে গেলে রেয়াত নয়।