প্রখ্যাত সাঁতারু ও পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত বুলা চৌধুরীর হিন্দমোটরের দেবাইপুকুরের বাড়িতে চুরির ঘটনায় অবশেষে সমাধান মিলল। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চন্দননগর থানার পুলিস উদ্ধার করল তাঁর হারানো মেডেল। ঘটনায় একজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
গত শুক্রবার বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। জানা যায়, বুলা চৌধুরীর আদিবাড়ি ‘সুন্দর বাড়ি’-তে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরি যায় একাধিক মেডেল, পুরস্কার এবং ব্যক্তিগত সামগ্রী। এমনকি তাঁর পদ্মশ্রী পদকটিও খোয়া যায়। এছাড়া চোরেরা বাথরুমের কল থেকে শুরু করে লক্ষ্মীর ঘট পর্যন্ত নিয়ে যায়।
বাড়ির পিছন দিকেই রয়েছে রেল লাইন। পুলিসের অনুমান, সেখান দিয়েই বাড়ির পেছনের গ্রিল কেটে ভিতরে ঢোকে চোর। বাড়িতে তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। কিন্তু চোরেরা পরিকল্পনা করে সেগুলি ঢেকে দেয়। ফলে ফুটেজ পাওয়া গেলেও মুখ চিনতে অসুবিধা হচ্ছিল তদন্তকারীদের।
বুলা চৌধুরী বর্তমানে কসবায় থাকেন। হিন্দমোটরের বাড়িটি দীর্ঘদিন ফাঁকাই থাকে, কেবল একজন কেয়ারটেকার মাঝে মাঝে দেখাশোনা করেন। আগেও সেখানে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। একসময় উত্তরপাড়া থানার পুলিস মোতায়েন ছিল, তবে পরে সেই প্রহরা উঠে যায়। ১৯ জুলাই বুলা শেষবার ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন।
চুরির ঘটনার পরই দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিস। সিসিটিভির কিছু অংশ খতিয়ে দেখা হয় এবং স্থানীয় সূত্রে তথ্য জোগাড় করা হয়। অবশেষে চন্দননগর থানার পুলিস মাত্র একদিনের মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তার কাছ থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে বুলার পদ্মশ্রী পদক-সহ একাধিক মেডেল।
বুলার ভাই মিলন চৌধুরী জানান, 'সামনেই পুজো। তাই শুক্রবার বাড়ি সাফ করতে গিয়েছিলাম। তখনই দেখি পিছনের গেটের তালা ভাঙা। ঘরে ঢুকে দেখি একাধিক মেডেল ও স্মারক নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ছিল। তবে পুলিস দ্রুত উদ্ধার করায় স্বস্তি পেলাম।'
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বাড়ি দীর্ঘদিন ফাঁকা থাকায় সহজেই সুযোগ নেয় চোর। তবে পরিকল্পিত চুরি হওয়া সত্ত্বেও দ্রুততার সঙ্গে মেডেলগুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও তদন্ত চলছে, চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বুলা চৌধুরী একসময় ভারতীয় সাঁতারের জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি প্রথম এশীয় মহিলা সাঁতারু যিনি পাঁচটি মহাসাগর পাড়ি দিয়েছেন। তাঁর এই অবদানের জন্য ১৯৯০ সালে তাঁকে অর্জুন পুরস্কার এবং ১৯৯৪ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। সেই পদকই এবার চুরির কবলে পড়ে যায়। সব মিলিয়ে, চুরি হলেও দ্রুত উদ্ধার হওয়ায় আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে চৌধুরী পরিবার।