শহরতলির এক যুবক—কখনও ক্যাসেট-সিডির দোকান, কখনও ফাস্ট ফুড, কখনও গাড়ি সারানোর গ্যারেজ। পেশা বদল যেন ছিল তাঁর অভ্যাস। কিন্তু কোভিডের লকডাউন সবকিছু থামিয়ে দিল।
ঘরে বসে স্মার্টফোনের স্ক্রিনেই তখন বিনোদন ও আয়ের নতুন দুনিয়া খুলে গেল। রিলস, ইউটিউব শর্টস, ফেসবুক লাইভ—সবই যেন রাতারাতি সোনার খনি হয়ে উঠল। সেই গ্যারেজ মালিকও হয়ে গেলেন ফুলটাইম কন্টেন্ট ক্রিয়েটর।
মেটার ‘রিলস প্লে বোনাস’ অনেককে রাতারাতি জনপ্রিয়তা ও আয় এনে দিল। রান্না, গান, ভ্রমণ, মেকআপ—যা-ই হোক, ভিডিয়ো মানে ভিউ আর ভিউ মানে টাকা।
কিন্তু সুখের দিন বেশিদিন টিকল না। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা, কৌশল বদল আর প্ল্যাটফর্ম নীতির ধাক্কায় ভিডিয়ো পিছু আয় ৫০–৭০% কমে গেল।
যাঁরা শুধু কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের উপর নির্ভর করতেন, তাঁদের জন্য শুরু হল কঠিন সময়। কেউ ফিরে গেলেন পুরনো পেশায়, কেউ নতুন কিছু ভাবতে বাধ্য হলেন।
তখনই শুরু হল ‘ডাইভার্সিফিকেশন’ ট্রেন্ড। ট্রাভেল ভ্লগাররা হয়ে গেলেন ট্যুর অপারেটর। রান্নার চ্যানেলের ক্রিয়েটররা খুললেন হোম-বেকারি বা রেস্তরাঁ। কেউ ভিডিয়ো এডিটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শেখাতে শুরু করলেন। আবার কেউ টি-শার্ট, মগ, ব্যাগে নিজেদের কন্টেন্ট-থিমে পণ্য বিক্রি করছেন।
এই অভিজ্ঞতা শেখাল—শুধু প্ল্যাটফর্মের অ্যাড রেভিনিউর উপর নির্ভর করা বিপজ্জনক। অ্যালগরিদম, নীতি বা বাজারের পরিবর্তন মুহূর্তে সব পাল্টে দিতে পারে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় সফল হতে হলে চাই সৃজনশীলতা, ব্যবসায়িক বুদ্ধি, আর একাধিক আয়ের পথ। সুযোগ যেমন বিশাল, ঝুঁকিও তেমন বড়।