নদিয়ার ধানতলার হালালপুর গ্রামে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে এক হৃদয়বিদারক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন খোকন সন্ন্যাসী ও তাঁর স্ত্রী অলকা।রুপোর গয়না তৈরি ও বিক্রিই ছিল খোকনের পেশা। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসায় টানা মন্দা চলছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে দেনার বোঝা। একপর্যায়ে পাওনাদারের চাপে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন খোকন ও তাঁর স্ত্রী। তবে মেয়ের কথা ভেবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তাঁরা এবার আরেক চরম পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন — নিজেদের কিডনি বিক্রি করতে চান তাঁরা।
খোকন বলেন, “আমরা আর পারছি না। আত্মসম্মান তো দূরের কথা, দুমুঠো ভাত জোটানোই মুশকিল হয়ে গিয়েছে। সরকারের কাছে সাহায্য চাই, নয়তো সত্যিই কোনও ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলব।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ
বিষয়টি সামনে আসতেই রানাঘাট ২ নম্বর ব্লকের বিডিও শুভজিৎ জানা জানান—
“এইভাবে কিডনি বিক্রি করা অবৈধ ও অমানবিক। তবে সরকারিভাবে সাহায্যের দরজা খোলা। স্বনির্ভর গোষ্ঠী কিংবা অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা সম্ভব।”ফলে আপাতত চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন খোকন-অলকা দম্পতি। তাঁদের আশা, সরকারি সাহায্য মিললে হয়তো তাঁরা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।