CBSE open-book assessment: বই খুলে পরীক্ষা! CBSE-র নয়া নিয়মে বদলাবে পড়াশোনার ধরন...

user 10-Aug-2025 দেশ

২০২৬ সাল থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষায় বড় বদল আনতে চলেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)। মুখস্থ বিদ্যার চাপ কমিয়ে প্রয়োগমুখী শিক্ষাকে বাড়াতে চালু হচ্ছে ‘ওপেন-বুক অ্যাসেসমেন্ট’—যেখানে পরীক্ষার হলে বই, ক্লাস নোট বা রেফারেন্স উপকরণ ব্যবহার করে উত্তর লেখা যাবে।

এই সিদ্ধান্ত জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ এবং ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন (NCFSE) ২০২৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের গভর্নিং বডি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এটি অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে।

প্রথমে ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান—এই চারটি মূল বিষয়েই হবে ওপেন-বুক পরীক্ষা। প্রতি টার্মে তিনটি লিখিত পরীক্ষার অংশ হিসেবেই এই পদ্ধতি যুক্ত হবে। উদ্দেশ্য একটাই—শিক্ষার্থীদের তথ্য খুঁজে বের করার, বিশ্লেষণ করার ও যুক্তি দিয়ে উপস্থাপন করার ক্ষমতা তৈরি করা।

পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা
২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতি চালু হয়। ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এর রিপোর্টে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের নম্বরের পরিসর ছিল ১২% থেকে ৪৭%। এতে বোঝা যায়, বই হাতে থাকলেও তথ্য প্রয়োগ ও সমালোচনামূলক চিন্তায় এখনও অনেক উন্নতির সুযোগ রয়েছে। তবে শিক্ষকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

আগের প্রচেষ্টা ও ব্যর্থতা
এটি CBSE-র প্রথম চেষ্টা নয়। ২০১৪ সালে চালু হয়েছিল ‘ওপেন টেক্সট বেসড অ্যাসেসমেন্ট’ (OTBA), কিন্তু ২০১৭-১৮ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। মূল কারণ—শিক্ষার্থীরা মুখস্থ নির্ভরতা কাটাতে পারেনি এবং সমালোচনামূলক দক্ষতাও গড়ে ওঠেনি।

নতুন পরিকল্পনা
এবার বোর্ড মানসম্মত নমুনা প্রশ্নপত্র তৈরি করবে যাতে শুধুমাত্র বই দেখে উত্তর কপি না করে, বরং চিন্তা করে প্রয়োগ করতে হয়। স্কুলগুলো চাইলে এই পদ্ধতি নিতে পারবে, বাধ্যতামূলক নয়।

বোর্ডের আশা, এই পদ্ধতিতে পরীক্ষার ভয় ও মুখস্থের চাপ কমবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বাস্তব সমস্যায় শিখে নেওয়া জ্ঞান প্রয়োগ করতে শিখবে—যা ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

Related Post

জনপ্রিয় পোস্ট