পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ইউটিউবার ও ভ্লগার জ্যোতি মালহোত্রা এবার আরও বড় বিপদে পড়লেন। শনিবার বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) আদালতে যে চার্জশিট জমা দিয়েছে, তাতে জ্যোতিকে পাক চর হিসাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চার্জশিটে কী আছে?
হরিয়ানা পুলিসের SIT প্রায় ২,৫০০ পাতার চার্জশিট পেশ করেছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, জ্যোতির সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনের আধিকারিক এহসা উর রহিম ওরফে দানিশ-এর সরাসরি যোগাযোগ ছিল। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানে একাধিকবার ভ্রমণও করেছেন তিনি।তদন্তে উঠে এসেছে, দানিশ ছাড়াও পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর একাধিক এজেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিলেন জ্যোতি। তাদের মধ্যে রয়েছে শাকির, হাসান আলি এবং নাসির ধিঁলো। চার্জশিট অনুযায়ী, তাঁর ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া নথি ও কল ডিটেলস এই যোগাযোগের প্রমাণ দিচ্ছে।
গত ১৬ মে জ্যোতি মালহোত্রাকে পাক গুপ্তচরের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে হরিয়ানা পুলিস। তারপর থেকেই তিনি বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। পুলিসের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি গোপনে চরবৃত্তির কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
চার্জশিটে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, গত বছর ১৭ এপ্রিল তিনি পাকিস্তান সফরে যান এবং ১৫ মে ভারতে ফেরেন। শুধু তাই নয়, একই বছরের ১০ জুন তিনি চীন সফরে যান এবং পরে নেপালও ভ্রমণ করেন। তদন্তকারীদের অনুমান, এসব সফরের পিছনেও গুপ্তচরবৃত্তির যোগসূত্র থাকতে পারে।
তদন্তকারীদের একাংশ মনে করছেন, জ্যোতি মালহোত্রা আসলে এক বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অংশ, যারা ভারতের সংবেদনশীল তথ্য বিদেশে পাচার করত। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (NSA) আওতায় সর্বোচ্চ সাজাও হতে পারে।
আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ
এখন আদালতে চার্জশিটের শুনানি শুরু হবে। SIT-এর দাবি অনুযায়ী, জ্যোতির কাছ থেকে প্রাপ্ত নথি ও প্রমাণ এতটাই শক্তিশালী যে তাঁকে পাক গুপ্তচরের অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।সবমিলিয়ে, ইউটিউবার থেকে পাক চর—এই চাঞ্চল্যকর মোড়ে গোটা দেশই নজর রাখছে হরিয়ানার এই মামলার দিকে। আগামী দিনে বিচারপর্বেই স্পষ্ট হবে, জ্যোতি মালহোত্রার ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে।