Reliance Jio 6G: নেক্সট-জেন যুগের শুরু! বাজার কাঁপাতে আসছে Jio-র 6G...

user 11-Aug-2025 প্রযুক্তি

ভারতের ডিজিটাল বিপ্লবের গল্পে Reliance Jio 6G-র নাম যেন সোনার হরফে লেখা। 4G দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রা এখন 6G–এর দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সর্বশেষ বার্ষিক রিপোর্ট জানাচ্ছে, জিও ইতিমধ্যেই 6G প্রযুক্তি নিয়ে সক্রিয় গবেষণা ও উন্নয়ন শুরু করেছে এবং এই খাতে বিশ্বনেতা হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে।

জিও বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডেটা অপারেটর, প্রতি মাসে ১৭ এক্সাবাইটেরও বেশি ডেটা পরিচালনা করে। ভারতের মোট ওয়্যারলেস ডেটা ট্র্যাফিকের প্রায় ৬০% নিয়ন্ত্রণ করছে একাই। কোম্পানির ভাষায়, তারা ভবিষ্যতের যোগাযোগ প্রযুক্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা শুধু ভারতের নয়, বিশ্বের ডিজিটাল মানচিত্রকেও বদলে দেবে।

যাত্রার সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত
২০১৬ সালে 4G চালুর মাধ্যমে জিও ভারতের ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরণই পাল্টে দিয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালে ফাইবার-টু-দ্য-হোম সার্ভিস, ২০২২ সালে স্ট্যান্ডঅ্যালোন 5G এবং ২০২৪ সালে Fixed Wireless Access (FWA) চালু করে ক্রমাগত নতুন প্রযুক্তি বাজারে এনেছে। মাত্র এক দশকের মধ্যে, তারা ভারতের ডেটা-অন্ধকার কাটিয়ে আলোর জগৎ তৈরি করেছে।

জিও টেরেস্ট্রিয়াল নেটওয়ার্কের বাইরেও নজর দিয়েছে। তারা নিজস্ব স্যাটেলাইট যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম তৈরির পথে এগোচ্ছে এবং SpaceX-এর সঙ্গে মিলে ভারতে Starlink-এর ব্রডব্যান্ড সেবা প্রদানের জন্যও কাজ করছে। এই পদক্ষেপ ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও হাই-স্পিড ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।

২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত জিওর ১৯ কোটি 5G ব্যবহারকারী হয়েছে, যা তাদের মোট ওয়্যারলেস ডেটা ট্র্যাফিকের প্রায় ৪৫%। ব্রডব্যান্ড ফ্রন্টে তারা ১৮ কোটি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত, যা নতুন সংযোগের দিক থেকে শিল্পে ৮৫% অবদান।

জিও শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নেই নয়, পরিবেশ সুরক্ষায়ও এগিয়ে। তারা ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে ১০০% পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রেখেছে। বৃহত্তর রিলায়েন্স গ্রুপ ২০৩৫ সালের মধ্যে নেট-জিরো কার্বন ফুটপ্রিন্ট অর্জনে কাজ করছে।

জিএসএমএআই-এর ২০২৫ সালের মার্চ মাসের একটি স্টাডি অনুসারে, জিওর ডেটা ট্র্যাফিক পরিচালনায় শক্তি ব্যবহারের হার বিশ্ব গড়ের তুলনায় প্রায় ৩০% কম। এটি প্রমাণ করে যে, জিও প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়েও বিশ্বমানের।

জিও সরকারের IndiaAI মিশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি জাতীয় AI ইকোসিস্টেম তৈরি করছে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিংয়ের জন্য যে বিশাল ডেটা প্রক্রিয়াকরণ প্রয়োজন, তার ফলে শক্তি চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও, জিও এই প্রক্রিয়াকে টেকসইভাবে বাস্তবায়নের পথে কাজ করছে।

জিওর 6G পরিকল্পনা শুধু একটি টেলিকম আপগ্রেড নয়; এটি ভারতের প্রযুক্তি, টেকসই শক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে দিচ্ছে। এই যাত্রা প্রমাণ করে, ভারতের ডিজিটাল বিপ্লব এখন বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার পথে।

Related Post

জনপ্রিয় পোস্ট