Naag Devta Saved Dharali: স্বপ্নে সতর্কবার্তা! নাগদেবীর আশীর্বাদে বেঁচে গেল অর্ধেক গ্রাম...

user 10-Aug-2025 দেশ

উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম ধারালি। চারিদিকে বরফঢাকা শৃঙ্গ, একপাশে ক্ষীরগঙ্গা নদীর স্রোত—এই ছবির মতো গ্রামেই ঘটল এক অদ্ভুত কাহিনি, যা আজও লোকমুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কথিত আছে, ভয়ংকর ফ্ল্যাশফ্লাড আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টা আগে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ স্বপ্নে এক সতর্কবার্তা পান। স্বপ্নে দেখা দেন স্থানীয় দেবী ‘কৈলা কুঁয়ার’—যিনি নাগদেবী হিসেবেও পূজিতা। স্বপ্নে তিনি গ্রামবাসীদের বলেন, এক বড় বিপদ আসছে, সবাই যেন মন্দিরে এসে তাঁর আরাধনা করে।

সকালে খবর ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। আশ্চর্যজনকভাবে, প্রায় অর্ধেক মানুষ তাঁদের কাজ ফেলে মন্দিরে চলে আসেন। ঘণ্টাধ্বনি, মন্ত্রোচ্চারণ আর ধূপের গন্ধে ভরে ওঠে পাহাড়ি বাতাস। কে জানত, এই ধর্মীয় আচারই হবে তাঁদের রক্ষাকবচ!

ঠিক তখনই ঘটে যায় বিপর্যয়। হঠাৎ করে আকাশ কালো হয়ে আসে, বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকে, আর মুহূর্তের মধ্যে ক্ষীরগঙ্গা নদী ফুলে ওঠে। প্রবল স্রোতে ভেসে যায় গ্রামের বহু বাড়িঘর, দোকান, এমনকি কয়েকটি হোটেলও। বাজার এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। কিন্তু মন্দিরে উপস্থিত এক জনও আহত হননি।

গ্রামবাসীরা এখনো বিশ্বাস করেন, দেবীর আশীর্বাদ না থাকলে এত বড় বন্যায় এত মানুষ বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল না। অনেকে এটিকে নিছক কাকতালীয় ঘটনা বলে মনে করলেও, ধারালির মানুষ এটিকে একেবারে অলৌকিক ঘটনা হিসেবেই দেখেন।

এই ঘটনার পর থেকে মন্দিরে ভক্তদের ভিড় আরও বেড়েছে। পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাছেও স্থানটি এখন বিশেষ আকর্ষণের। স্থানীয়রা গর্ব করে বলেন—
"যেদিন প্রকৃতি আমাদের পরীক্ষা নিয়েছিল, সেদিন নাগদেবী আমাদের রক্ষা করেছিলেন।"

হিমালয়ের এই অংশে বর্ষাকালে বারবার ঘটে এমন বিপর্যয়। কখনও ক্লাউডবার্স্ট, কখনও ধস, কখনও হঠাৎ বন্যা। কিন্তু ধারালি গ্রামের এই ঘটনার মধ্যে যেন একটা রহস্য লুকিয়ে আছে। আছে বিশ্বাস, ভক্তি আর বেঁচে থাকার অদ্ভুত সমন্বয়।

Related Post

জনপ্রিয় পোস্ট